ডিসকাশন প্রজেক্ট - নতুন পথ যারা বাঁধতে চায়, তারা সমাজের অগ্রযাত্রারই পথ বাধে
প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরে ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’। সকল সদস্য-শুভানুধ্যায়ীদের সংস্থার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা!
ঢাকা, নভেম্বর ২০, ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১:৩৮ am

নতুন পথ যারা বাঁধতে চায়, তারা সমাজের অগ্রযাত্রারই পথ বাধে

বিজ্ঞান ভাবনা | ২৬ ফাল্গুন ১৪২১ | Tuesday, March 10, 2015

old-8.jpgআসিফ হচ্ছেন বাংলাদেশে গ্রীক পদ্ধতিতে জ্ঞানপ্রচারক সফিষ্টদের মত এক তরুণ। মৌল বিজ্ঞানের শিহরণ জ্ঞান ও তথ্যকে তিনি তিনি আগ্রহচ্ছু সাধারণ ও অসাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন একটি শর্তে, সম্মানীর বিনিময়ে। জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ থাকলে তার জন্য সামর্থ অনুযায়ী অর্থ ব্যায় করার শিক্ষাটাও তিনি এ সমাজকে দিচ্ছেন। তার এক ঘন্টার আলোচনা এতই গভীর ও হৃদয়গ্রাহী যে, সামর্থ থাকলে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করলেও কম মনে হবে। একজন দশজন, একশজন যাই হোন, যাই দিন — তিনি দর্শনী ছাড়া সময় ব্যয় করেন না। কারণ, জ্ঞানের মূল্য আছে, তা তিনি শিক্ষা দিতে চান। এ সৃষ্টিশীলতার বিদ্রোহে তাঁর অন্তপ্রেরণায় আছে আলেক্সান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ও বিংশ শতাব্দীর গটিনজেনের স্বপ্ন, বাংলাদেশে মৌলিক বিজ্ঞানের চিন্তা এমনই জ্ঞানচর্চার মধ্যদিয়ে আন্দোলনের রূপ নেবে। ডিসকাশন প্রজেক্টে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের অনেক ছাত্রছাত্রী যুক্ত হয়েছে।
জ্ঞানপত্রিকা যুক্তরস্ট্রের দি ম্যাথমেটিক্স পত্রিকা ৭৫০০ জ্ঞানগর্ভ রচনা প্রকাশ করেছে। ৯০ বর্ষের ১ম সংখ্যায় তারা হাইস্কুল স্তরের দ’ুজন শিক্ষার্থীর এক গাণিতিক অভিসন্দর্ভের প্রকাশ করেছে। —সফট ওয়্যার আর গাণিতিক যুক্তির ইনজেনুইটি ও নাইটিভিটি ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের কিশোরদ্বয় দুহাজার বছর আগে গ্রীক গণিতজ্ঞ ইউক্লিডের প্রথম উত্থাপিত জিজ্ঞাসা আর তারই উপস্থাপিত সমাধানকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় পথ বাৎলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ১০ই ডিসেম্বর এ খবর পরিবেশন করে আন্তর্জাতিক গুরুত্বের সাথে। বস্তুতঃ সেদিন ডিসকাশন প্রজেক্ট এর তরুণ সংগঠক আসিফ এসেছিলেন রাস্ট্রের অফিসে। ইউক্লিডের ৩৪ পৃষ্ঠার জ্যামিতি প্রতিপাদ্যের মূল গাণিতিক রচনা নিয়ে। রচনাটি গুরুত্বপূর্ণ ততে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাতে কিছু জ্যামিতিক চিত্র থাকায় সম্পাদনা বিভাগ বেশ একটু বিচলিত বোধ করেন, এই ভেবে, পাঠক আবার একে গণিতের ক্লাস বলে ভয় পেলে পত্রিকাটি কাটতি কমে যেতে পারে। আসিফ খুব সহজভাবে বলে গেছেন, পান্ডুলিপিটি তিনি আবার পড়ে নিয়ে আসবেন। কারণ মৌল গণিতের যুক্তি ও সৌন্দর্য অনুধাবন করতে যদি আমরা না শিখি, তাহলে আমাদের অযুক্তির প্রগলভতা কমবে না। এমনকি ডিপ্লোম্যাসী, নিগোসিয়েশন, সন্ধি, চুক্তি, অংশভাগ ইত্যাদিতে যারা জড়িত, তাদেরও নাকি পঠনপাঠনের মধ্যে গণিত ও জ্যামিতি থাকা উচিৎ। আসিফ আরো বলে গেছেন, বক্তব্য দিয়ে যদি দাগ কাটতে চান তাহলে সংবাদ পত্রের লোকদের গণিত পাঠ করা উচিত। গটিনজেন শহরের কথা, আলেক্সান্দ্রিয়ার কথা তুলে বলে গেলেন, তখনতো রাস্তা দিয়ে হেটে বেড়ানোর সময় অ্যাস্ট্রোনোমির গণিত ও জ্যামিতি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে বেড়ানোর সময় আলাপ হত। সমগ্র মানবজাতির মধ্যে মহাজগত সম্বন্ধে নিমগ্ন ও মৌলজ্ঞান কমে গেছে- আপন সমাজে এই মৌলধ্যান জাগিয়ে তোলার জন্য তিনি ও ডিসকাশন প্রজেক্ট কাজ করবেন। প্রতিভাবান সাহিত্যিক ও সমাজ সংগঠক আহমদ ছফা এ তারুন্যের মৌলিকত্বের তারিফ করেছেন এবং বলেছেন, “নতুন পথ যারা বাঁধতে চায়, তারা সমাজের অগ্রযাত্রারই পথ বাধে।” ডিসকাশন প্রজেক্ট এর ১১ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গল কামনা করছি।

লেখক: নাজিমউদ্দিন মোস্তান
১৯৯৬ সালে সাংবাদিক নাজিমউদ্দিন মোস্তানের তিনটি ফিচার ও রিপোর্টিং এর সারসংক্ষেপ