<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<!-- generator="siteadmin/" -->
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/cloud/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	>

<channel>
	<title>ডিসকাশন প্রজেক্ট</title>
	<link>https://www.discussionproject.org</link>
	<description>জ্ঞানই আমাদের গন্তব্য</description>
	<pubDate>Sat, 11 Jul 2020 14:33:05 +0000</pubDate>
	<generator>http://dotsilicon.com?v=18</generator>
	<language>en</language>
			<item>
		<title>আমাদের কথা</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/516</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/516#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 08 May 2020 17:11:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[আমাদের কথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/516</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="" alt="" /></span>ডিসকাশন প্রজেক্ট
সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার জন্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা দরকার, সেই চেতনা এনে দিতে পারে বিজ্ঞান। মানুষকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বোঝানো গেলে মানুষ বুঝতে পারবে তার অবস্থান, বুঝতে পারবে তার প্রয়োজনটা। তাকে আলাদা করে কুসংস্কারের ব্যাপারে শিক্ষা দেবার দরকার নেই, উন্নয়নের আবশ্যিকতা বলে দেয়ার দরকার নেই। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত প্রচারণা/ধারণার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের চেতনা ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><strong><font color="#800000">ডিসকাশন প্রজেক্ট</font></strong></p>
<p>সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার জন্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা দরকার, সেই চেতনা এনে দিতে পারে বিজ্ঞান। মানুষকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বোঝানো গেলে মানুষ বুঝতে পারবে তার অবস্থান, বুঝতে পারবে তার প্রয়োজনটা। তাকে আলাদা করে কুসংস্কারের ব্যাপারে শিক্ষা দেবার দরকার নেই, উন্নয়নের আবশ্যিকতা বলে দেয়ার দরকার নেই। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত প্রচারণা/ধারণার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের চেতনা ও ধারণা বিকশিত করা যত সহজ ও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব, তা আর কোনভাবেই নয়। এই অবস্থান ও বিবেচনা থেকে ডিসকাশন প্রজেক্ট সক্রিয় ও তৎপর।<br />
ডিসকাশন প্রজেক্ট অতীতের জ্ঞান ধারাকে অনুসরণ করে একটি মুক্ত জ্ঞান-চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ডিসকাশন প্রজেক্ট-এর সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ থেকে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চিলমারি পর্যন্ত। সংস্থার সদস্যদের বিজ্ঞান ও সভ্যতা বিষয়ক বিভিন্ন লেখা ইতোমধ্যে দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জার্মান রেডিও সেন্টার ডয়েচে ভিলে এবং রেডিও ভেরিতাস, ফিলিপাইন থেকে ডিসকাশন প্রজেক্ট-এর উপর প্রতিবেদনসহ বিজ্ঞানবক্তা আসিফের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়া নয় বরং গোয়েটিংগেন, আলেক্সান্দ্রিয়ার মতো জ্ঞানকেন্দ্র গড়ে তোলাই আমাদের স্বপ্ন। আর কিছু না হোক সমাজের এ বিশৃঙ্খলা, হতাশার মাঝে বিজ্ঞানের চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টাই বা কম কি? বিজ্ঞান-চর্চার এ আন্দোলনে জড়িত হওয়ার আমন্ত্রণ রইল।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/516/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>লক্ষ্য</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/517</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/517#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 05 May 2020 07:50:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[আমাদের কথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/517</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="" alt="" /></span>তথ্যপ্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষতার যুগে মানবীয় মূল্যবোধকে সবার উপর স্থান দেওয়াই ডিসকাশন প্রজেক্ট -এর প্রথম ও প্রধানতমঃ উদ্দেশ্য। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাযুক্তিক সাফল্যের সাথে সংস্কৃতির (শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত) বৈভবকে কমিয়ে আনা জরুরী। এই মূল্যবোধকে যথাযথ আসনে উপনীত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত উদ্দেশ্য ও কর্মসমূহ পালনে ডিসকাশন প্রজেক্ট সচেষ্ট &#8211;
&#160;

মহাবিশ্বের ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, জীবনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify">তথ্যপ্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষতার যুগে মানবীয় মূল্যবোধকে সবার উপর স্থান দেওয়াই ডিসকাশন প্রজেক্ট -এর প্রথম ও প্রধানতমঃ উদ্দেশ্য। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাযুক্তিক সাফল্যের সাথে সংস্কৃতির (শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীত) বৈভবকে কমিয়ে আনা জরুরী। এই মূল্যবোধকে যথাযথ আসনে উপনীত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত উদ্দেশ্য ও কর্মসমূহ পালনে ডিসকাশন প্রজেক্ট সচেষ্ট &#8211;</p>
<p style="text-align: justify">&nbsp;</p>
<ul>
<li>মহাবিশ্বের ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস, জীবনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, মানুষের ক্রমবিকাশ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিবর্তন নিয়ে বিশুদ্ধ জ্ঞান অন্বেষন ও তার চর্চা।</li>
<li>বিশুদ্ধভাবে জ্ঞানচর্চার জন্য বিজ্ঞানের যেসব মৌলিক বিষয় রয়েছে (গণিত, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও জোর্তিঃবিজ্ঞান) তা নিয়ে সর্বদা চর্চা, আলোচনা ও সংস্কৃতির সাধারণ অঙ্গ করে তোলা।</li>
<li>জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যে সকল মানুষ কিংবদন্তী হয়ে আছে তাদের জীবনী ও কাজসমূহ নিয়ে আলোচনা করা।</li>
<li>এই প্রজেক্টের মাধ্যমে বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতে মূল্যবান ও আধুনিক যে-সব বইপত্র ও তথ্য আছে তা অনুবাদ করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করা এবং পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে সকল শ্রেণীর পাঠকের কাছে তা পৌঁছে দেয়া। পাশাপাশি ডিসকাশন প্রজেক্টের সদস্যদের বিজ্ঞানচর্চার সাথে সাথে বিজ্ঞান ও সভ্যতা বিষয়ক লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ করে তোলা।</li>
<li>পরিবেশকে দুষনমুক্ত রাখা এবং জ্বালানী সংকট থেকে বের হয়ে আসার অভিপ্রায়ে সৌরশক্তির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করণ।</li>
<li>সর্বোপরি দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান ও সভ্যতা বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চমৎকারভাবে এ সকল বিষয় উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শককদের মধ্যে মুক্তভাবে জ্ঞান অন্বেষনকে প্রভাবিত করা এবং পাশাপাশি এ বিষয়ে পেশাদারী মনোভাব ও গুরুত্ব তৈরি করা। উপরোক্ত দায়িত্বগুলো পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিক দূরত্বকে শিথিল করে মানুষের মধ্যে বৈজ্ঞানিক প্রবাহকে নিশ্চিত করা।</li>
</ul>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/517/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>আসিফের মহাজাগতিক পথচলা</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/440</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/440#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2020 17:11:51 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[আসিফের মহাজাগতিক পথচলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/440</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/dvd-cover-asif.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
উন্মাদ পত্রিকা সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের পরিকল্পনায় এবং মাহবুবুল আলম তারুর গবেষণা ও পরিচালনায় বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্টের কর্মকাণ্ড ও  আসিফের বিজ্ঞান বক্তৃতার ওপর নির্মিত হয়েছে একটি প্রামাণ্যচিত্র। ২৪ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘আসিফের মহাজাগতিক পথচলা&#8217;। উল্লেখ্য, ডিসকাশন প্রজেক্ট ১৯৯২ সাল থেকে বিজ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করে চলেছে ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/dvd-cover-asif.thumbnail.jpg" alt="আসিফের মহাজাগতিক পথচলা" /><br />
উন্মাদ পত্রিকা সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের পরিকল্পনায় এবং মাহবুবুল আলম তারুর গবেষণা ও পরিচালনায় বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্টের কর্মকাণ্ড ও  আসিফের বিজ্ঞান বক্তৃতার ওপর নির্মিত হয়েছে একটি প্রামাণ্যচিত্র। ২৪ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘আসিফের মহাজাগতিক পথচলা&#8217;। উল্লেখ্য, ডিসকাশন প্রজেক্ট ১৯৯২ সাল থেকে বিজ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করে চলেছে বাংলাদেশের একপ্প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এই কাজটি তারা করে গেছেন। বিজ্ঞান বক্তৃতাগুলোর লক্ষ্য ছিল, সাধারণের কাছে বিজ্ঞানকে সহজ ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলে ধরা। এই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যাবে এক স্বোচ্ছাসেবী বলছেন : ‘আমরা খুব শগ্ধিকত ছিলাম যে, টিকিট সেল করে বক্তৃতা! এটা কুড়িগ্রামের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি এবং বক্তৃতা শোনার জন্য টিকিট নেবে কি-না! এ রকম একটা শঙ্কা আমাদের মধ্যে প্রচণ্ডরকম কাজ করেছিল।&#8217; কিন্তু বাস্তবে মানুষ এসেছেন এবং আগত দর্শক-শ্রোতাদের ভেতর থেকে বলতে শোনা গেছে : ‘এ রকম একটা অনুষ্ঠান কুড়িগ্রামে হবে, আমরা দেখব, এটা কখনোই ভাবতে পারিনি। খুব ভালো লাগল আমার।&#8217; ২০০৪ সালের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর এমপি&#8217;র আমন্ত্রণে নীল ফামারি শহরে আসিফ বক্তৃতা দিতে গিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify">আসিফই সম্ভবত বাংলাদেশে একমাত্র পেশাদারি বিজ্ঞান বক্তা, যিনি দর্শনীর বিনিময়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। ২৪ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রটি ‘ ১১ জুলাই ২০১৭ সালে&#8217; মুক্তি পেল। উল্লেখ্য, মাহবুবুল আলম তারুর পরিচালনায় নির্মিত ও প্রকাশিত অন্যান্য প্রামাণ্যচিত্রগুলো :প্রিয়ভাষিণী, ডা. জোহরা কাজী,</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/440/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>ব্যাধি মুক্তির সন্ধানে</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/454</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/454#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 07 Apr 2020 22:00:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান ভাবনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/454</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/coronavirus564x320-jpg.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
করোনার কথা উঠলেই নানা প্রসঙ্গ সামনে এসে হাজির হয়। যেমন ২০০২ সালের একটি ঘটনা: পৃথিবীতে সার্স ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। এই ঘটনা ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও তা পৃথিবীব্যাপি এভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে পৃথিবীর মানুষ সঠিক অর্থে জীববিজ্ঞানকে নিতে পারলে বর্তমান এই বিপদের আভাস আগে থেকে অনেকটাই বোঝা যেত।
বিজ্ঞান বিশেষত জীববিজ্ঞান বলে, মানুষ প্রকৃতির অংশ। ফলে বিজ্ঞান ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/coronavirus564x320-jpg.thumbnail.jpg" alt="ব্যাধি মুক্তির সন্ধানে" /><br />
করোনার কথা উঠলেই নানা প্রসঙ্গ সামনে এসে হাজির হয়। যেমন ২০০২ সালের একটি ঘটনা: পৃথিবীতে সার্স ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। এই ঘটনা ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও তা পৃথিবীব্যাপি এভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে পৃথিবীর মানুষ সঠিক অর্থে জীববিজ্ঞানকে নিতে পারলে বর্তমান এই বিপদের আভাস আগে থেকে অনেকটাই বোঝা যেত।</p>
<p style="text-align: justify">বিজ্ঞান বিশেষত জীববিজ্ঞান বলে, মানুষ প্রকৃতির অংশ। ফলে বিজ্ঞান জানলে সে বুঝতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকাটা কেন প্রয়োজন। বিজ্ঞান পথ দেখাতে পারে, মানুষ পরস্পরের সঙ্গে সহনশীল সম্পর্ক রেখে কিভাবে বসবাস করবে? কেননা বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারে, কীভাবে বৃক্ষ-উদ্ভিদ, নদী-নালা গড়ে উঠেছিল? এর ওপর নির্ভর করে মানুষ ও স্তন্যপায়ী জীবদের টিকে থাকার পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। প্রকৃতি কতটুকু চাপ সহ্য করতে পারে, তার বেশি হলে ভেঙ্গে পড়তে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">আর যদি আমরা আর একটু অগ্রসর হই এবং কার্লোস লিনিয়াস, চার্লস ডারউইন, জোহান্স গ্রেগরি মেন্ডেল এর পথ ধরে হাটি তাহলে বুঝতে পারবো করোনা ভাইরাসের গতি প্রকৃতি। কার্লোস লিনিয়াসের ট্যাক্সোনোমি বা নামকরণবিদ্যার পথ ধরেই আমরা বুঝতে পারি বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভাইরাসটির বিজ্ঞানভিত্তিক কি নামটি হওয়া উচিৎ এবং অন্যান্য ভাইরাসের সঙ্গে তার পার্থক্য কী? ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বানুসারে আমরা বুঝতে পারি পৃথিবীতে এতো বিপুল বৈচিত্র্যের কারণ, প্রাণজগতের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, কিভাবে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে? তার ব্যত্যয় হলে কি ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে? জোহান গ্রেগরি মেন্ডেল এর বংশগতির পথ ধরে আমরা বুঝতে পারি সেই ভেঙ্গে পড়া পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, পরিবর্তন বা মিউটশনের কতসব অভিনব ধারা থাকতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">আর মাথায় রাখতে হবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার কিছু নেই, তাকে সমন্বয় করে চলতে হয়। উল্লেখ্য ইংল্যান্ডে প্লেগ রোগ দেখা দিলে ১৬৬৫ সালের মধ্যভাগে মহামারি আকারে বিস্তারলাভ করে। ফলে ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় নিউটন নিজ গ্রাম উইলসথর্পে ফিরে আসেন। ১৮ মাসের অবসরে তাঁর নিজের গ্রামের বাড়িতে তৈরি হয় তাঁর সমস্ত আবিষ্কারের ভিত্তি। মহাকর্ষ ও গতির সূত্র আবিষ্কার ছাড়াও ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাস ও ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাসে জন্ম হয়েছিল যা গাণিতিক নিয়মে প্রকৃতির বিষয় অনুসন্ধানের পথ খুলে দিয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">একই রকম কাজ সবকালে, সব পরিস্থিতে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই; তবে বিশ্বের প্রায় ১১৫টি দেশে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে জাতীয় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে প্রায় ১২০ কোটি শিক্ষার্থী একরকম বেকার হয়ে পড়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকেই অনলাইনের সুবাদে বর্তমান থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বোর্ডের বইয়ের গাদা গাদা পড়া শিক্ষার্থীদের গেলাতে চাইছে। আর শিক্ষার্থীরা চোখের সামনে ঘটে চলা মৃত্যু, ক্ষুধা আতঙ্ককে নির্লিপ্তভাবে পাশ কাটিয়ে খাচ্ছে আর উগরাচ্ছে।</p>
<p style="text-align: justify">অথচ ভাবুন দেখি ছোট্ট একটা ভাইরাস, চোখে দেখা যায় না। কিভাবে পৃথিবীটাকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিল। পরে জানা গেল ২০০২ সালে প্রাদুর্ভাব হওয়া সার্স ভাইরাসের সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক আছে বা এটি তার বিবর্তিত রূপ। তাহলে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারলো না কেন? আমরাতো জানতাম সেইসব জীববিজ্ঞানীদের এবং তাদের দেখানো পথগুলোকে। ক্ষমতায় থাকা নেতৃত্ব আরেকটি দেশের পরিস্থিতি থেকে দেখে শোধরালো না কেন? কারণ পুঁজি, মুনাফা, ক্ষমতার লোভ আর শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ; অশুভ এবং অপরিপক্ক মস্তিস্কধারী ব্যাক্তিদের ক্ষমতার শীর্ষ বা কেন্দ্রে আরোহন অথবা শীর্ষ বা কেন্দ্রবিন্দু বলে কিছু থাকার মতো অনেক ধরনের ব্যাধি।</p>
<p style="text-align: justify">আহ, এভাবে যদি চিন্তা করা সম্ভব হয় যে পৃথিবীর এই সব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বেরিয়ে আসবে, বেরিয়ে আসবে সেই সব মানুষেরা, যারা দেখাবে এক ব্যাধিমুক্ত পৃথিবীর পথ।</p>
<p>লেখক: আসিফ<br />
<em>বিজ্ঞান বক্তা ও লেখক; সম্পাদক, মহাবৃত্ত</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/454/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>সূর্য কি ওঠে, নাকি সূর্য ডোবে : মহাজাগতিক পথচলা</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/444</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/444#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Apr 2020 17:33:33 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান ভাবনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/444</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/diskas.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
প্রশস্ত এক রাস্তা ধরে রিকশা দিয়ে এগিয়ে গেলেও মিনিটবিশেক লাগে পৌঁছতে। জায়গাটা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের নিকটবর্তী জেলেপাড়ার কাছে; খাঁড়ির মতো একটা জায়গা; মাঝে মাঝে হাওয়া এসে কেমন এলোমেলো করে দেয়। যেখানে অজস্র জেলে নৌকা ভাটায় দাঁড়িয়ে থাকে আর জোয়ারে চলে যায় সমুদ্রের গভীরে, মাছ ধরতে। রাস্তার কিছুটা প্রারম্ভে চট্টগ্রামের কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/diskas.thumbnail.jpg" alt="সূর্য কি ওঠে, নাকি সূর্য ডোবে : মহাজাগতিক পথচলা" /><br />
প্রশস্ত এক রাস্তা ধরে রিকশা দিয়ে এগিয়ে গেলেও মিনিটবিশেক লাগে পৌঁছতে। জায়গাটা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের নিকটবর্তী জেলেপাড়ার কাছে; খাঁড়ির মতো একটা জায়গা; মাঝে মাঝে হাওয়া এসে কেমন এলোমেলো করে দেয়। যেখানে অজস্র জেলে নৌকা ভাটায় দাঁড়িয়ে থাকে আর জোয়ারে চলে যায় সমুদ্রের গভীরে, মাছ ধরতে। রাস্তার কিছুটা প্রারম্ভে চট্টগ্রামের কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। বিজ্ঞান বক্তৃতা (কসমিক ক্যালেন্ডার বিষয়ে) করতে হয়েছিল ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে। সময়টা ছিল সকাল ১১টায়, ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল। খোলা মাঠে রোদের মধ্যে অনুষ্ঠানটি হওয়ায় মাল্টিমিডিয়া তেমন কাজে আসেনি। তবে অনুষ্ঠানটি ভীষণ প্রাণবন্ত হয়েছিল। অনেক ধরনের প্রশ্ন আমার দিকে ছুড়ে মেরেছিল তারা। বক্তৃতার পর বিকালে আমি যখন জেলেপাড়ায় নৌকাগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের শেষ আলো চলে যাওয়া দেখছিলাম, তখনই শিক্ষার্থীদের করা অদ্ভুত কিছু প্রশ্ন আমাকে ঘিরে ধরেছিল; যেন পিথাগোরীয় সময়ের আবেগ আর ঈজিয়ান সাগরের ঢেউ, লাল আভায় মোড়ানো এক পৃথিবী।</p>
<p style="text-align: justify">সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করেছিল : তুমি বলছ সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে আর এই কথাটি বলার জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের ওপর নির্যাতন চলেছে, জিওর্দানো ব্রুনোকে পুড়িয়ে মেরেছে, অথচ আজও আমরা যখন বলি সূর্য ওঠে, সূর্য ডোবে; তা তো এই কথাই বলে সূর্যের চারদিকে নয়, পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে। আমি চুপ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি; অনুভব করি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনকে সাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে পৃথিবীর সংস্কৃতিগুলোর ব্যর্থতা। কেননা এখনো সে রকম বাক্যবিন্যাস আমাদের অভ্যাসে আনতে পারেনি যার অর্থ হবে, ‘সূর্যের চারদিকেই পৃথিবী ঘোরে; বুঝতে পারবে প্রতিদিন সূর্যের মুখোমুখি হই, ১২ ঘণ্টা কাটিয়ে সূর্য থেকে সরে গিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রবেশ করি, ১২ ঘণ্টা পর সূর্যের মুখোমুখি হয়ে দিনের আলোর মুখোমুখি হই।&#8217; অথচ এটাই ছিল কেন্দ্র থেকে বিকেন্দ্রীকরণের দিকে যাওয়ার অভিযাত্রা। শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা থেকে সরে গিয়ে সবার একজন হয়ে ওঠার যাত্রা।</p>
<p style="text-align: justify">সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে আমি যেন ঢেউ গুনছিলাম, নতুন করে বেরিয়ে পড়ার জন্য। সাংস্কৃতিক দর্শনের অগ্রপথিক ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ এই কথাগুলোর এক ধরনের প্রারম্ভিক সূচনা ঘটায়। ২০০৭ সালে নালন্দার সঙ্গে সংযুক্তি আমাকে শিশুশিক্ষা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। শুনেছিলাম নালন্দা এক ধরনের প্রকৃতঘনিষ্ঠ করে শিশুদের বড় করে তুলতে চায়, বুঝেছিলাম মাঠহীন, গাছহীন কংক্রিটের মধ্যে কাটানো শৈশবকে মুক্ত করার একটা প্রচেষ্টা। ভালো লেগেছিল। কিন্তু কালচারালি ইন্টিগ্রেটেড কথাটার কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, যদিও জীবন বিকাশের নতুন কোনো প্রচেষ্টার একটা ইঙ্গিত ওয়াহিদুল হকের কণ্ঠেও আমি শুনেছিলাম। দুর্ভাগ্য বলতে হবে, এগুলো স্পষ্ট হওয়ার আগেই উনি প্রয়াত হন।</p>
<p style="text-align: justify">একটা স্কুল আসলে কী। কীভাবে এর মধ্য দিয়ে একটি শিশু তার জার্নিটা শুরু করবে? অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির ঘুঁটি হিসেবে বড় না হয়ে যাতে সে মানব সাগরের তীরে পৌঁছতে পারে? একটা বিষয় আমার কাছে সব সময় পরিষ্কার ছিল, শ্রেষ্ঠত্বের প্রবণতা জাহির করার জায়গাগুলো থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে না-শিক্ষা, না-সমাজ মানবিক হয়ে উঠবে। শ্রেষ্ঠত্ব হলো কেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টা আর সবার একজন হয়ে ওঠা হলো বিকেন্দ্রীকরণের পথ, মানবিকতার পথ। মস্তিষ্কেও গভীরে এই কেন্দ্রীকরণের বিষয়টি প্রোথিত। বিবর্তনে উদ্ধৃত এই অংশের অসঙ্গতিগুলোকে দূর করতে না পারলেও যেই ক্ষমতার শীর্ষে যাক, যেই রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধান হোক তাতে কিছু আসে যাবে না। প্রচলিত একটা প্রবাদ তো আছেই, ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।&#8217; তখনই লোকায়ত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষাকে যুক্ত করার তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">এর অর্থ হচ্ছে অতীতে মানুষের যে জীবনযাপন যার কারণে আমরা এতদূর এসেছি তা সংগঠিতভাবে শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা। তাই হচ্ছে কালচারালি ইন্টিগ্রেশন বা সাংস্কৃতিকভাবে সম্পৃক্তকরণ বা জোড়াহীন এক পথ। মস্তিষ্কের অসঙ্গতিগুলোকে দূর করার একটা উপায়ও। তাই আইনস্টাইনও ১০০ বছর আগে বলে গেছেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে সর্বাধিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে স্কুলকে ব্যবহার করার চেয়ে স্কুলকে তরুণদের মধ্যে সেসব গুণ ও দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি জোর দিয়েছেন। কেননা সহনশীলতা, নমনীয়তা নিয়ে মানবিকবোধ জাগ্রত করতে না পারলে নানা অঘটন ঘটিয়ে আমরা নিজেদের ধ্বংস করে ফেলতে পারি। যেমন জঙ্গিবাদ, জীবাণু অস্ত্র, সাংস্কৃতিক সংঘর্ষ এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এই মানবীকরণের পদক্ষেপগুলোকে এভাবে চিন্তা করা যেতে পারে :</p>
<p style="text-align: justify">স্কুল সবার সঙ্গে মিলেমিশে জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে : যখন একটা শিশু অঙ্কুর বা প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয় তখন সে অনেকের সঙ্গে জীবনের যাত্রায় শামিল হয়। হৈচৈ করে, খেলাধুলা চিৎকার-চেঁচামেচি করে, ভাবের আদান-প্রদান করে। এর মধ্য দিয়ে তারা এক ধরনের বিনিময় ঘটায়। বুঝতে শুরু করে একা ও অনেকের সঙ্গে মিলে চলার পার্থক্যটা। শিক্ষাকর্মী বা শিক্ষকরা শুধু নজর রাখবেন, কোনো অঘটন থেকে বিরত রাখায় সচেষ্ট থাকবেন।</p>
<p style="text-align: justify">এগুলোর পাশাপাশি শিক্ষাকর্মীরা ধীরে ধীরে ক্লাস বা পাঠকক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করতে থাকবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা সবার সঙ্গে বসে শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর কথা শুনতে উদ্বুদ্ধ হয় অথবা কোনো শিক্ষার্থী সবার সামনে ফর্মাল কথা বলার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে তার মধ্যে যেন এই প্রস্তুতি গড়ে ওঠে: ক্লাসে সবাই সুশৃঙ্খলভাবে বসবে, নিজের ক্লাসটা ভালো না লাগলেও অন্যের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখবে, প্রশ্নোত্তরের ব্যাপারে শিক্ষার্থী একটা বোঝাপড়ায় পৌঁছতে চেষ্টা করবে।</p>
<p style="text-align: justify">এভাবে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের এই সিদ্ধান্তে আনতে হবে, আমাদের চিৎকার-চেঁচামেচি, খেলাধুলা, গল্পগুজবের অভিজ্ঞতা, পাঠচর্চা, প্রশ্ন প্রতিপ্রশ্ন বিনিময় করার সুশৃঙ্খল জায়গা হচ্ছে এই শ্রেণিকক্ষ, নিজেদের উন্মোচন বা এক্সপ্লোরেশনের জায়গা এটা। এগুলোর মধ্য দিয়ে বোঝাপড়া, সহনশীলতা অর্থাৎ মিলেমিশে থাকার শক্তি ও উপলব্ধিটা বাড়বে।</p>
<p style="text-align: justify">বিবর্তনীয় জীববিদ্যা বলছে, যে পরিবর্তন ও অভিজ্ঞতা ও অন্যকে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আমরা হমো সেপিয়েন্স প্রজাতিটি এখানে এসেছি। তাতে এই মিলেমিশে থাকার গুণগুলোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। স্কুলিংয়ের এই চর্চার মধ্য দিয়ে উল্লেখিত গুণগুলো ধীরে ধীরে অর্জন করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">মেমোরাইজেশন : মানুষের সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে ভুলে যাওয়া। মানবজাতির অর্জনই হচ্ছে এই ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে স্মৃতিধারণের সংগ্রাম। সে যত বেশি পেছনের ঘটনাবলিকে মনে রাখতে পারবে, তার চলার পথ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ততবেশি সহনশীল ও প্রশস্ত হবে, ভবিষ্যৎকে সে নির্মাণ করতে পারবে তত বেশি আপন আলয়ে। মানবিক জীবনের বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করবে সেসব স্মৃতিধারণ। তা ছাড়া প্রত্যেকটি শিশু ভবিষ্যতের মানুষ। আজকের যে বাস্তবতা তা ভবিষ্যতে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সেটা আমাদের শিক্ষায় গুরুত্বসহকারে নিতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify">নালন্দা ছাড়াও অরণী, সহজপাঠ, ফুলকী এবং তক্ষশীলার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অল্পবিস্তর যাওয়া হয়েছে। এখানে শিশুদের নানা ধরনের সৃজনশীল কাজ করানো হয় প্রথম থেকে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ স্কুল পর্যন্ত শিশুরা তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক যুগের একটা সময় অতিবাহিত করে। ১২ বছরের প্রত্যেক পর্বে স্কুলে তার কর্মকা-ের কম করে একটিসহ মোট ১২চিহ্ন (লেখা বা ছবি ইত্যাদি) তাকে অ্যালবামের আকারে বিদায় প্রাক্কালে দেওয়া গেলে সে নিজের বেড়ে ওঠাটা দেখতে পাবে। এতে স্কুলের প্রতি, সমাজের প্রতি যে বোধ তৈরি হবে তা সমাজ ও নিজের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করবে।</p>
<p style="text-align: justify">প্রত্যেক শিশুর চারপাশের পরিবেশ ও ঐতিহ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া : ২০০৯ সাল। নিঝুম দ্বীপের গামছা খাল। এই খাল দিয়ে প্রতিদিন আমরা দুজন পার হতাম। আর ৮ বছরের এক শিশু নৌকার হাল ধরত। সে গান গাইত ‘আমি নিঝুম <sup>TM</sup>^ীপের মাঝি।&#8217; তার উদাত্ত কণ্ঠস্বরে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসত। যেন নিঝুম দ্বীপ কাঁপত। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি বড়ো হয়ে কী হবে। সে স্বচ্ছ দৃষ্টি মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিল, আমি মাঝি হব। যেন মাঝি হওয়ার মধ্য দিয়েই নিজেকে উন্মোচন করতে চায়, জগৎকে জানতে চায়।</p>
<p style="text-align: justify">আমাদের শিক্ষিত সমাজেও কেউ নাবিক হতে চায়, কেউ ডাক্তার হতে চায়, প্রকৌশলী হতে চায়; কেউ বিজ্ঞানী হতে চায়। নিঝুম দ্বীপের সেই শিশুকে, কেন সে মাঝি হবে জিজ্ঞেস করলে সে হেসেছিল। আমি বুঝেছিলাম প্রত্যেকটি শিশুর একটা পারিবারিক পরম্পরা থাকে, পরম্পরা থাকে ঐতিহ্যের। তার চারপাশটা ঘিরে সে চিন্তা নানা পরিবর্তন ্ও বিকাশ সাধন হয়। তার ভিত্তিতে এই চাওয়া। অতএব একটা শিশুকে ভর্তি করার সময় কেস হিস্ট্রিটা ঠিকমতো নিতে পারলে পরিবার ও স্কুলের মধ্যে ইন্টিগ্রিটি বা অবিচ্ছেদ্যতা তৈরি করবে। এটা স্কুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর সঙ্গে আমাদের সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এমনকি নাবিক হওয়ার ব্যাপারে যে লাভক্ষতির হিসাব কাজ করে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ওরকম মিথস্ক্রিয়া থেকে যদি এ রকম হওয়ার ইচ্ছা জাগে তা মানবিক এবং মহৎ। তাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।</p>
<p style="text-align: justify">শিশু বয়সে এই ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে নিয়ে যেতে পারলে মানবিক সমাজ তৈরির পথ প্রশস্ত হবে। মানুষ অনিশ্চয়তা থেকে কিছুটা হলেও বের হয়ে আসতে পারবে। শিক্ষায় প্রথম থেকেই একটা শিশুকে শ্রেষ্ঠত্ব এবং অন্যদের থেকে বেশি মেধাবী ও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার বীজ বপন করা হয়, তার থেকে রক্ষা করতে পারবে। পরস্পরের সঙ্গে বোঝাপড়া, সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুষম মানবিক সমাজ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করবে।</p>
<p>লেখক: আসিফ<br />
<em>বিজ্ঞান বক্তা ও লেখক; সম্পাদক, মহাবৃত্ত</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/444/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>জামাল নজরুল ইসলাম: মাটি-মহাকাশের সঙ্গে জীবনের যোগ খুঁজতে</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/471</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/471#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 16 Mar 2020 14:58:49 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[স্মরণীয় ও বরণীয়]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/471</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/jamal.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
১৯৮৮ সালের কথা। কৃষ্ণবিবর বা ব্ল্যাকহোল নিয়ে ভীষণ আগ্রহ। এ সম্পর্কে টুকরো টুকরো লেখা পড়েছি। দ্রুত কোনো কিছু পাওয়ার জন্য ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল না তখন। ব্রিটিশ কাউন্সিল, জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ভারতীয় হাইকমিশন এবং ব্যান্সডকের মতো গ্রন্থাগারগুলো একমাত্র সহায়। এ রকম একটি সময় ব্রিটিশ কাউন্সিলে কৃষ্ণবিবর নিয়ে লেখা একটা বই পেয়ে যাই। এর ওপর এত ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/jamal.thumbnail.jpg" alt="২০১১ সাল অক্টোবর মাস। মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে অনেকে এসেছিলেন এনায়েতপুর। অধ্যাপক জামাল নজরুলও এসেছিলেন। উনি মহাবৃত্ত প্রকাশনার আইনস্টাইন সংখ্যা দেখছেন" /><br />
১৯৮৮ সালের কথা। কৃষ্ণবিবর বা ব্ল্যাকহোল নিয়ে ভীষণ আগ্রহ। এ সম্পর্কে টুকরো টুকরো লেখা পড়েছি। দ্রুত কোনো কিছু পাওয়ার জন্য ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল না তখন। ব্রিটিশ কাউন্সিল, জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ভারতীয় হাইকমিশন এবং ব্যান্সডকের মতো গ্রন্থাগারগুলো একমাত্র সহায়। এ রকম একটি সময় ব্রিটিশ কাউন্সিলে কৃষ্ণবিবর নিয়ে লেখা একটা বই পেয়ে যাই। এর ওপর এত বড় একটি বই পাব ভাবতেই পারছিলাম না। নাম ব্ল্যাকহোল, দ্য মেমব্রেন প্যারাডাইম&#8217;, ইয়োলো ইউনিভার্সিটি প্রেস&#8217; লেখক কিপ থর্ন, রিচার্ড প্রাইস, ডগল্যাস ম্যাকডোনাল্ডস। ৩৭০ পৃষ্ঠার বইতে কৃষ্ণবিবরের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা। যাদের আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে তেমন ধারণা নেই কিন্তু চিরায়ত পদার্থবিদ্যা নিয়ে পোক্ত অবস্থান, তাদের জন্যই বইটি লেখা। এ বইয়ের রেফারেন্সগুলো দেখতে গিয়ে এক জায়গায় চোখ আটকে গেল। একটি বইয়ের নাম ‘দ্য আলটিমেট ফেট অব দ্য ইউনিভার্স&#8217;, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, কেমব্রিজ। লেখক প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম। খবর নিয়ে জানলাম আমাদের দেশের মানুষ। হকিং, পেনরোজ, ডাইসনরা তার বন্ধু। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গাণিতিক পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববিখ্যাত কসমোলজিস্ট (বিশ্বসৃষ্টিতাত্ত্বিক)। আন্তর্জাতিক মহলে জেএন ইসলাম হিসেবে পরিচিত। সাংস্কৃতিক জাগরণের অগ্রপথিক ওয়াহিদুল হক তার কথা প্রায় বলতেন; বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন নিয়ে তাদের মধ্যে অদ্ভুত মজার সব আলোচনা হতো নাকি। আধুনিক প্রযুক্তির কোনো কিছুই তিনি ব্যবহার করতেন না। এই মানুষটির লেখা দ্য আলটিমেট ফেট অব দ্য ইউনিভার্স (১৯৮৩) বইটি আট-নয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটি বিশ্বের জ্ঞানভা-ারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে থাকবে। বইটি ফরাসি, ইতালীয়, জার্মান, পর্তুগিজ, সার্বোক্রোয়েটসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। পৃথিবীর সব বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বইটি পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়। বইটির পেপারব্যাকও বেরিয়েছে ২০০৯ সালে। দ্য আলটিমেট ফেট অব দ্য ইউনিভার্স বইটির ভূমিকাটি পড়লে আমরা দেখতে পাবÑ ফ্রিম্যান জন ডাইসন, এসজে আরসেথ, স্টিফেন উইলিয়াম হকিং (১৯৪২), এস মিটন, জেভি নারলিকার, মার্টিন জে.রিজ এবং জেসি টেইলরের মতো লব্ধ-প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের নাম, যাদের কাছে বইটি লেখার জন্য তিনি ঋণস্বীকার করেছেন। কৃষ্ণবিবর (বাংলায় ১৯৮৫)Ñ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বইটি দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯৮ সালে তিনি ইতালির আবদুস সালাম সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের থার্ড ওয়ার্ল্ড একাডেমির লেকচার পদক লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফুসফুসের সংক্রমণ ও হৃদরোগেই ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু ঘটে।</p>
<p style="text-align: justify">জামাল নজরুল ইসলামের জন্ম যশোরের ঝিনাইদহ শহরে, ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে। তারই বার্তা বহন করে বংশপরিচয়ে। মাতামহ শামসুল ওলামা কামালউদ্দিন ছিলেন গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে সরকারি কলেজের প্রথম মুসলমান অধ্যক্ষ। মনীষী আবু সয়ীদ আইয়ুব তার মামা। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক এবং লালসালু উপন্যাসের স্রষ্টা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তার ফুপাতো ভাই। তার বাবা খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বিচার বিভাগীয় একজন মুন্সেফ। এ ছাড়া ছিলেন ব্রিটিশ আমলের প্রাদেশিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মা রাহাত আরা ছিলেন উর্দু ভাষার কবি, যিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকঘর নাটিকাটি সফলভাবে উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন। তার রচিত পঞ্চাশটিরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে। গবেষণাপত্রগুলো অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান জার্নালে। পিএইচডি শেষে তিনি দুবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডে চলে যান। ১৯৭৪ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে এসে ইউনিভার্সিটি অব কার্ডিফে আবার আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ৪০ বছরের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে আর কেউ আইনস্টাইন উত্থাপিত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করেননি বলে তার কাছ থেকে জানা যায়। তার অবদানকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাক্রমে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিদ্যা, কনফর্মাল মহাকর্ষ তত্ত্ব, মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ, মহাজাগতিক ধ্রুবক লামডা।</p>
<p style="text-align: justify">পৃথিবীতে বৌদ্ধিকভাবে যার অবস্থান এ রকম, সে হঠাৎ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন দেশে ফিরে আসার। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে নেওয়ার জন্য এক ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ঢাকা নয়, চট্টগ্রামেই থাকবেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে নেওয়ার জন্য কিছু করলে ভালো হয়। এ দেশের অদ্ভুত সব জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে তাকে নেওয়া সম্ভব হয়নি। গণিতে একটা অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করে তাকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সময়টা ছিল ১৯৮৪ সাল। ৩৫ বছরের বিদেশ বসবাসের ইতি টেনে ১৯৮৪ সালে স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে ফিরে আসেন। বাড়ি-গাড়ি সব সম্পত্তি বেচে দিয়ে লাখ টাকা বেতনের প্রাপ্তি রেখে, কেমব্রিজ ছেড়ে তাও ঢাকায় নয়, একেবারে চট্টগ্রামে আসেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনাকে পেছনে ফেলে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে মাত্র ২৮শ টাকার চাকরি নেন।</p>
<p style="text-align: justify">কিন্তু কেন তিনি হঠাৎ এভাবে চলে এলেন? দেশের প্রতি, ভাষার প্রতি প্রবল ভালোবাসা? কিন্তু বিদেশে থাকাকালীন দেশের সব রকমের বিপর্যয় ও দুর্ঘটনায় তিনি এগিয়ে গেছেন। এটা আসলেই এক অমীমাংসিত রহস্য! কখনো কখনো বাস্তবতা গল্পের চেয়েও অদ্ভুত মনে হয়। তা জামাল নজরুল ইসলামের জীবনের দিকে তাকালে বোঝা যায়।</p>
<p style="text-align: justify"><em>আসিফ : বিজ্ঞান বক্তা; সম্পাদক, মহাবৃত্ত</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/471/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>নারায়ণগঞ্জে বিজ্ঞান বক্তৃতা: মানব প্রজাতির অনিশ্চিত গন্তব্য</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/478</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/478#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 15 Feb 2020 13:05:51 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান বক্তৃতা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/478</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="" alt="" /></span>প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক কারণেই প্রাণিজগতের একমাত্র দ্বিপদী প্রজাতি &#8216;মানুষের&#8217; ভবিষ্যৎ খুবই অনিশ্চিত। তার ওপর ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভে মরিয়া মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব কথা বলেছেন পেশাদার বিজ্ঞান বক্তা আসিফ। গতকাল নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করে। &#8216;মানব ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify">প্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক কারণেই প্রাণিজগতের একমাত্র দ্বিপদী প্রজাতি &#8216;মানুষের&#8217; ভবিষ্যৎ খুবই অনিশ্চিত। তার ওপর ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভে মরিয়া মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব কথা বলেছেন পেশাদার বিজ্ঞান বক্তা আসিফ। গতকাল নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।</p>
<p style="text-align: justify">নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করে। &#8216;মানব প্রজাতির অনিশ্চিত গন্তব্য&#8217; শিরোনামে এটি ছিল ডিসকাশন প্রজেক্টের ৭৭তম উন্মুক্ত আলোচনা। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ জানান, ১১০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী দর্শক হিসেবে এ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">দুই যুগের বেশি সময় ধরে আসিফ বাংলাদেশের প্রায় সব প্রান্তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বিজ্ঞানের বার্তা ফেরি করে বেড়াচ্ছেন। এই &#8216;মহাজাগতিক পথিক&#8217; প্রায় পৌনে তিনশ&#8217; বিজ্ঞান বক্তৃতা করেছেন। পৃথিবীর সাংস্কৃতিক সংঘাত থেকে শুরু করে &#8216;নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু&#8217;- বৈচিত্র্যে ভরা তার ভাষণের বিষয়বস্তু।</p>
<p style="text-align: justify">মাইলস্টোন কলেজ বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ বক্তৃতার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) এম কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রশংসা বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলেজের ইংরেজি শিক্ষক নুসরাত আলম স্বপ্না।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/478/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>ওয়াহিদুল হক : মানবিক পথের দিশারি</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/460</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/460#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 27 Jan 2020 13:23:02 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[স্মরণীয় ও বরণীয়]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/460</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/wahidul-haque1-1.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
১৯৮৮ সাল। বই খুঁজে বেড়ানোর দিনগুলো। কর্মক্লান্ত এক সন্ধ্যায়। দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত সাময়িকীর একটি সংখ্যা (১৯৮৮, ২০ অক্টোবর) আমার চোখের সামনে দেখতে পাই। ক্লান্তচোখে আমি পত্রিকার সাময়িকীটা নিয়ে নড়াচড়া করি। বিশাল একটি প্রবন্ধের দিকে বিরক্তিভরে তাকাই। শিরোনামটি ‘বিজ্ঞানীর&#8217; শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছিল। সেটাই কিছুটা উৎসাহ জোগালো মনোযোগে। একটা প্যারা পড়ার পর আরেকটি প্যারা যেন টেনে ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/wahidul-haque1-1.thumbnail.jpg" alt="ওয়াহিদুল হক : মানবিক পথের দিশারি" /><br />
১৯৮৮ সাল। বই খুঁজে বেড়ানোর দিনগুলো। কর্মক্লান্ত এক সন্ধ্যায়। দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত সাময়িকীর একটি সংখ্যা (১৯৮৮, ২০ অক্টোবর) আমার চোখের সামনে দেখতে পাই। ক্লান্তচোখে আমি পত্রিকার সাময়িকীটা নিয়ে নড়াচড়া করি। বিশাল একটি প্রবন্ধের দিকে বিরক্তিভরে তাকাই। শিরোনামটি ‘বিজ্ঞানীর&#8217; শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছিল। সেটাই কিছুটা উৎসাহ জোগালো মনোযোগে। একটা প্যারা পড়ার পর আরেকটি প্যারা যেন টেনে ধরল, আর ছুটতে পারলাম না। যেমন- সেখানে প্রথম প্যারায় লেখা রয়েছে : আপনারটি সংস্কৃতি বড়, তারটি ছোট- ভালোবেসে তাকে কিছু জায়গা ছাড়বেন আপনি? বড় বলে এই অহঙ্কার আসে কোথা থেকে? সংস্কৃতি কি জায়গাজোড়া ভল্যুমেট্রিক ঘটনা, না ছড়িয়ে পড়া কাপড়ের মতো আয়তনভিত্তিক বর্গমিটারের ব্যাপার?&#8230; আবার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের একটা জায়গায় আছে : অঙ্ক করার একটা ঘোর আছে, শিল্প গড়ারও ঠিক তাই থাকে, নিজের ভেতর নিজে ডুবে যাওয়ার ঘোর।</p>
<p style="text-align: justify">আকর্ষণ অনুভব করলাম, আমার মনোযোগও বেড়ে গেল। প্রবন্ধে এক পদার্থবিজ্ঞানীর কথা বলা হচ্ছে, যিনি বর্তমানে লুকাসিয়ান প্রফেসর পদে আসীন। এই আসনে নিউটনও ছিলেন।&#8230; আমি আঁটসাট হয়ে বসি। পড়তে থাকি গভীর মনোযোগে। তারুণ্যের প্রারম্ভে ওই সন্ধ্যায় হালকা ফ্যানের বাতাসে আমি যুক্ত হয়েছিলাম অসাধারণ এক অভিজ্ঞতার। রুদ্ধশ্বাসে সম্পূর্ণ পাঁচ হাজার চারশ শব্দের প্রবন্ধটি শেষ করলাম। এবার প্রথম প্রবন্ধের শিরোনামের দিকে তাকালাম, বিজ্ঞানীর নৈঃসঙ্গ আর লেখক হচ্ছেন ওয়াহিদুল হক। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে লেখকের সঙ্গেও পরিচয় ঘটেছিল। পরিচয় ঘটেছিল ‘চেতনা ধারায় এসো&#8217; বইটির সঙ্গে। তারই কল্যাণে চিনতে পেরেছিলাম দুটো অসাধারণ চরিত্র : জ্যোতির্বিদ ইয়ান শেলটন ও পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং।</p>
<p style="text-align: justify">একটি লেখায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, সংগীত আর রাজনীতি এভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিল এটি। প্রবন্ধটি আমাকে ভীষণভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল। পরে জেনেছিলাম, তিনি রবীন্দ্রকাব্য ও সংগীতচর্চায় নিবেদিতপ্রাণ এক নিরলস কর্মী ও শিক্ষক ছিলেন। এ দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক বোদ্ধা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। এসব কিছুর পাশাপাশি সমকালীন বৈজ্ঞানিক ভাবনাগুলোও তাকে তাড়িত করত।</p>
<p style="text-align: justify">এই লেখাই আমাকে তার সঙ্গে সাক্ষাতে ভীষণভাবে আগ্রহী করে তোলে। তার ১০ বছর পর বিজ্ঞান বক্তৃতার সুবাদে ডেইলি স্টার অফিসে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এক ধরনের যাতায়াত এবং আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। তাকে মির পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত একটি বই স্পেস টাইম অ্যান্ড গ্রাভিটেশন পড়তে দিই। সপ্তাহ দুই-তিনেক পরে দেখা করতে গেলে উনি আমাকে দেখে ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত হন। বলেন, আসিফ আমি ক্লিফোর্ডের নাম জানতামই না। তুমি এ ব্যাপারটায় আমাকে ঋণী করেছ। কেননা তাকে দেওয়া বইয়ের অংশ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify">এরও বছর দশেক পর তিনি আমাকে একদিন নালন্দা স্কুলে নিয়ে গিয়ে বললেন, এখানে তোমার সময় দিতে হবে। সেই থেকে ছায়ানটের নালন্দা স্কুলের সঙ্গে আমি জড়িত হয়ে পড়ি; শিশুশিক্ষাও আমার একটি বিষয় হয়ে পড়ে; মস্তিষ্ক বিবর্তনের অসংগতিগুলো দূর করার উপায়গুলো নিয়ে ভীষণভাবে ভাবতে থাকি। লোকায়ত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষাকে যুক্ত করার তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify">তারই প্রয়াস দেখি ওয়াহিদুল হকের কর্মকা-ে। ১ বৈশাখ আমাদের জাতীয় উৎসবে রূপ দেওয়ার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে তিনি ছিলেন নেতৃত্বস্থানে। আজ এ দেশে রবীন্দ্রসংগীতের যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তার মূলে আছেন তিনি। তাই দ্বিজেন শর্মার ভাষায়, ‘পূর্বোক্ত বাঙালির আত্মপরিচয়গত বিভ্রান্তি যারা ঘুচিয়েছেন তাতেও ‘যেসব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী&#8217; কবিতার লেখক আবদুল হাকিমের মতো মনীষীদের সঙ্গে চিরদিন উচ্চারিত হতে থাকবে ওয়াহিদুল হকের নামও।&#8217;</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিজেন শর্মা ২০০৭ সালে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের মার্চের সংখ্যায় ‘সন্তের কথা&#8217; শিরোনামে ওয়াহিদুল হকের ওপর একটি লেখা লেখেন। তিনি সেখানে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ মাড়াননি কোনোদিন। হেলায়ফেলায় বিএটা পাস করেছিলেন। তা না করলেও পারতেন। পৃথিবীর সব প-িতই আসলে স্বশিক্ষিত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাদের বিশেষ সহায়তা দেয় না। এমন প-িতরা বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান, কেউ তাদের ডিগ্রির খোঁজ নেয় না; কিন্তু ভারত উপমহাদেশে ব্যাপারটা উল্টো। তার পরও এসব বাধা অতিক্রম করে তিনি উঠে এসেছিলেন। পরিণত হয়েছিলেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অচ্ছেদ্য অংশে।</p>
<p style="text-align: justify">রাজনীতি, সংস্কৃতি, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইতিহাস, চিত্রকলাসহ অনেক বিষয়ে তার উৎসাহ সমান ছিল। এ উৎসাহের মধ্য দিয়ে নিজেকে যেমন বিকশিত করতে চেয়েছিলেন, অন্যকেও করে গেছেন উদ্বুদ্ধ। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ দেশে সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছায়ানটকে দাঁড় করিয়েছেন, তাই তাকে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও বলা হয়। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সব সময় অগ্রভাগেই থাকতেন। কণ্ঠশীলনসহ বহু সংগঠনের সঙ্গেই তিনি জড়িত ছিলেন। সংস্কৃতিকে বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্যের একীভূতরূপে দেখেছেন। বিজ্ঞান বোধহীন সমাজে প্রযুক্তির সম্প্রসারণ কীভাবে মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় সে বিষয়ে নিজে সজাগ ছিলেন, অন্যকে সতর্ক করে গেছেন। উপলব্ধি ছাড়া জ্ঞান কখনো কখনো বিপজ্জনক হতে পারেÑ সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির এ বিকাশ তারই ইঙ্গিত। ‘গণিত, সমাজ ও বাস্তবতা&#8217; শিরোনামে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধও লিখেছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">ওয়াহিদুল হক সংগীত ও শিল্পকলাকে বিশেষ বিষয় হিসেবে না দেখে শিক্ষাব্যবস্থায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে একই তালে মিলিয়ে দিতে চেয়েছেন এবং ভেবেছিলেন এগুলো একীভূতভাবে সংযুক্ত করতে পারলেই শিক্ষা মানবিক হয়ে উঠবে। পারফরমিং বা বিনোদনের জায়গা থেকে নয় বরং অস্তিত্বের প্রয়োজন ও বিকাশের জায়গা থেকে সংগীত ও শিল্পকলাকে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এক্সট্রা কারিকুলাম বা বিশেষ বিষয় নয়। আরও ১০টি বিষয়ের মতো এর অন্তর্ভুক্তি থাকতে হবে। কেননা এ বিষয়গুলো মানবজাতির আদি বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত, সভ্যতার বিকাশেই তার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। গুহাচিত্র তার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। ধরুন ৩০ থেকে ৩২ হাজার বছর আগে মানুষরা ছবি আঁকা শুরু করল। কেন? শিকার করার অভিজ্ঞতাকে লিপিবদ্ধ করার জন্য বা কীভাবে ভবিষ্যতে শিকার করবে; এমনও হতে পারে অবসর সময়ে গভীর ভাবনার বিমূর্তকে রূপায়ণের প্রচেষ্টা থেকে। তিনটার কোনটা আগে এসেছিল বলা মুশকিল। তবে আমরা বলতে পারি অস্তিত্বের প্রয়োজন থেকেই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। তদ্রƒপ সংগীতও শারীরিক ছন্দ ঐকতানের প্রণোদনা জোগাতে আরম্ভ হয়েছিল ৩৬ থেকে ৪০ হাজার বছর অগে। সভ্যতার অস্থিরতার ক্ষেত্রে একটা বড় কারণ হচ্ছে মানুষের জীবনযাপন থেকে সংগীত ও শিল্পকলার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।</p>
<p style="text-align: justify">মানুষ যদি শৈশব থেকে এই প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়গুলো বুঝতে ও শুনতে শুরু করে তা হলে এটা অন্যরকম তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়াবে। আবেগ-অনুভূতিগুলো গভীর তাৎপর্যময় ছন্দে স্পন্দিত হবে। এই শিক্ষা পরবর্তী জীবনে যেসব শিল্পী সংগীতজ্ঞের জন্ম হবে তাদের জীবনবোধ অনেক গভীর ও মানবিক হবে।</p>
<p style="text-align: justify">মনে রাখতে হবে, একটা শিশু শুধু পরিবার থেকে আসেনি, মা-বাবা থেকেও শুধু আসেনি। সে আসলে ৪০ হাজার প্রজন্মের সুদূর উত্তরাধিকার। এটা বোঝার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর উদ্ভব, গ্যালাক্সিও উদ্ভব এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এটার মধ্যে দিয়ে সে বুঝতে পারবে অপরাধ প্রবণতা কেন তৈরি হয়। মানুষের মধ্যে সবকিছু কুক্ষিগত করার প্রবণতার কারণ কী? মানুষ কেন ছলে-বলে-কৌশলে সবকিছু নষ্ট করে ফেলতে চায়। আসলে সমাজ বিকাশে যে গভীর প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা আসলে বিবর্তনের দীর্ঘ যাত্রায় সৃষ্ট। মস্তিষ্ক বিকাশজনিত সমস্যা। এগুলো শুধরানো স্কুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেটাই শিক্ষা, প্রশিক্ষণ নয়। স্কুলিংয়ের কাজ হলো মানবজাতির যা অর্জন তাকে যতটা পদ্ধতিগতভাবে শেখানো আর তার আলোয় ভবিষ্যতের পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করা। তা পারলেই পেশাগত কাজের জন্য জুতসই স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণই তাকে সমাজের কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গ্রহণযোগ্য তুলতে পারবে। সমাজে মানবিক মানুষ হিসেবে তার পেশা সম্পাদন করতে পারবে।</p>
<p style="text-align: justify">ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে দেখা হওয়ার কারণেই এগুলো ভাবতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। আজ তার ১৩তম জন্মবার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।</p>
<p style="text-align: justify"><em>লেখক: আসিফ, বিজ্ঞান বক্তা ও লেখক; সম্পাদক, মহাবৃত্ত </em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/460/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>মহাবৃত্ত: একাদশ বর্ষ-১ম সংখ্যা</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/448</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/448#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 12 Jan 2020 17:44:20 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[মহাবৃত্ত (বিজ্ঞান পত্রিকা)]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/448</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/mahabrittacover-web.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/mahabrittacover-web.thumbnail.jpg" alt="মহাবৃত্ত: একাদশ বর্ষ-১ম সংখ্যা" /></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/448/feed</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>মহাজাগতিক পথচলা চিকো মেন্ডিসের স্বপ্ন : আমাজন কী থাকবে ঘনীভূত লোভের লোলাজিহ্বা</title>
		<link>https://www.discussionproject.org/457</link>
		<comments>https://www.discussionproject.org/457#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 09 Oct 2019 12:47:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>joel</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান ভাবনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.discussionproject.org/457</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/50112402_303.thumbnail.jpg" alt="" /></span>
নতুন করে পুড়েছে বা পোড়ানো হয়েছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস&#8217;খ্যাত বন আমাজন। প্রত্যেক বছরই পোড়ে তবে এবার অনেক বেশি পুড়েছে। দ্য ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (আইএনপিই) বলছে, আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ। সরকারি হিসাব বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে ব্রাজিলের জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানল হয়েছে। যা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পুরো ২০১৮ সালের প্রায় দ্বিগুণ। ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/50112402_303.thumbnail.jpg" alt="নতুন করে পুড়েছে বা পোড়ানো হয়েছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত বন আমাজন" /><br />
নতুন করে পুড়েছে বা পোড়ানো হয়েছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস&#8217;খ্যাত বন আমাজন। প্রত্যেক বছরই পোড়ে তবে এবার অনেক বেশি পুড়েছে। দ্য ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (আইএনপিই) বলছে, আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ। সরকারি হিসাব বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে ব্রাজিলের জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানল হয়েছে। যা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। পুরো ২০১৮ সালের প্রায় দ্বিগুণ। ১৯৭০ সালে প্রথমবার পোড়ানো হয়েছিল রাস্তা বানানোর জন্য তখনো অনেক পুড়েছিল। অনেকেই মনে করছেন এর পেছনে সুদূর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা থাকতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify">এ ব্যাপারে একটা অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছে। ১৯৯৯ সাল। এপ্রিলের কোনো একদিন। আমি আর দ্বিজেন দা (বলছি প্রয়াত প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মার কথা), সঙ্গে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা শরফুদ্দিন সাহেব। আমরা যাচ্ছি শিমুলিয়া থেকে মাধবকু- জলপ্রপাত ও পাথারিয়ার পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দর্শনে। দ্বিজেন শর্মার গ্রাম শিমুলিয়া অর্থাৎ বড়লেখা থানার কাঁঠালতলী থেকে আট কিলোমিটারের পথ। তবে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার।</p>
<p style="text-align: justify">দুপার্শ্বে টিলা, গাছপালার সারি। ক্রমেই তা ঘন হয়ে উঠেছে। কখনো পাখির ডাক, কখনো ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে টিলার ওপর মানুষজন ঘরবাড়ি উঠিয়ে বসতি গড়ে তুলেছে। প্রচ- রোদে পাহাড়ি অঞ্চল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। দূরে পাথারিয়া পাহাড় দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে খাসিয়াপঞ্জির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরা আঁকাবাঁকা পথ ধরে কোথায় যেন চলেছে। শরফুদ্দিন সাহেবের কাছে জানা গেল এ স্থানটা আরও ঘন ছিল, ঢোকাও সহজসাধ্য ছিল না, রয়েল বেঙ্গল টাইগারও ছিল; আসামের জঙ্গলের থেকে আসত পাথারিয়া পাহাড়ে হাতি, গ-ার ও বন্য মহিষের দল, এখানে তাদের আড্ডা ছিল। তবে যেভাবে চারদিকে গাছ ও বনজঙ্গল নিধনের আয়োজন ও বাস্তবায়ন দেখলাম তাতে কয়েকদিন পরে মশামাছি ছাড়া কিছুই থাকবে না, বন একেবারে পাতলা হয়ে গেছে। টিলা কেটে একের পর এক বাড়ি ওঠাচ্ছে তাতে আমাদের সমতলভূমির খোলা ডাঙা বা ধানী জমিতে ঘর উঠানোর মতোই মারাত্মক। টিলাময় চা বাগানের ভেতর ও পাশ দিয়ে মাধবকু-ে যেতে যেতে অনাগত সেসব ভয়াবহ দিনের গল্পই হচ্ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">জেলা পরিষদের রেস্ট হাউসের সামনে। পাশেই সরকার পর্যটন হোটেল বানাচ্ছে। রোদের ঝিকিমিকিতে স্বপ্নময় মনে হলেও জায়গাটা অসংখ্য মানুষের আনাগোনায় নোংরা হয়ে পড়েছে। তার পরও চারদিকে কি শূন্যতা বিরাজ করছে; প্রকৃতির নানারকম শব্দ মুখরিত করে তুলছিল চারপাশটা; আমি উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় বিভোর ছিলাম তখন দ্বিজেন শর্মা বললেন, এসব হিউম্যান অ্যাক্টিভিটিসের ফলে ঝরনা শুকিয়ে যাবে, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, ম্যানকাইন্ড হলো জিওলজিক্যাল ফোর্স। শুরু করলেন বন ধ্বংসের এক গল্প :</p>
<p style="text-align: justify">স্থানীয় লোকদের ব্যবহার করে বন পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তার পর ওখানে প্রচুর ঘাস জন্মে ও গবাদিপশুর চারণভূমিতে রূপান্তরিত হয় এবং পশুপালনে মানুষদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। গজিয়ে ওঠে নানা ধরনের পশুপালনের খামার। যেহেতু ওই জমির উর্বরতা ছিল না, ফলে কিছুদিনের মধ্যে গবাদিপশুর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ঘাসের অভাবে এবং এক সময় এগুলোকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় পশুপালকরা। এভাবে ম্যাকডোনাল্ডের মতো কোম্পানিগুলো তাদের মাংসের চাহিদা মিটিয়েছিল বিশ্বব্যাপী। এটা যদিও হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো মনে হলেও এটার মধ্যে সুনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ছিল বলে পরে জানা গিয়েছিল। তার পর যখন এক উৎস শেষ হয়ে যায় তখন সেখান থেকে কোম্পানি আরেকটি উৎসস্থলে ছুটে যায়। এটা ব্রাজিলের আমাজন বন ধ্বংসেরই গল্প ছিল।</p>
<p style="text-align: justify">দ্বিজেন দা মাধবকু-ের বিপন্ন অবস্থাকে বর্ণনা করার জন্য তখনই পৃথিবীর গভীরতর অসুখে প্রবন্ধে চিকো মেন্ডিসের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে মম দুঃখের সাধনে তা প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে বিজ্ঞান লেখক পান্থ রহমান রেজা একজন চিকো মেন্ডিসের অপেক্ষায় শিরোনামে চিকো মেন্ডিসের কথা অসাধারণভাবে তুলে ধরেন সায়েন্স জার্নাল ‘মহাবৃত্ত&#8217;-এ। এ কাহিনিগুলো থেকেই বোঝা যায়, আমাজনকে রক্ষা করতেই যেন চিকো মেন্ডিসের জন্ম হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">আমাজন ধ্বংসের বন পোড়ানো নতুন কিছু নয়, পৃথিবীর তথাকথিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ১৯৭০ সালে সরকার ৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রান্সআমাজনিয়ান সড়ক নির্মাণের ঘোষণা দিলে তা শুরু হয়। এই সড়ক নির্মাণের ফলে আমাজনের অনেক আদিবাসী উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। এ সময় সড়ক নির্মাণকল্পে বনভূমিতে আগুন দেওয়া হয়। আরও পরে, রিও ব্রানকো থেকে এক্সাপুরির সংযোগ সড়কটি তাদের জীবনে দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে। কেননা তখন নির্দেশ আসে পেট্রল ঢেলে বনভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার। বনভূমি নষ্ট হওয়ায় ভূমিক্ষয় দেখা দেয়। বাড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। ১৯৮০ সালে বিআর ৩৬৪ সড়কটি আরও ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি তাদের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়াই বিপুল অঙ্কের টাকা দেয়। এতে করে ইন্ডিয়ানদের অবলুপ্তি ঘটে, বনভূমি লোপ পায়, অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ে, ভূমি ক্ষয় হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক আদ্রিয়ান কোওয়েল আমাজনের ওপর ‘ডিকেড অব ডিস্ট্রাকশন&#8217; নামে একটা তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। যাতে লেখা হয়ে আছে সেদিনের দুঃস্বপ্ন। আর চিকো মেন্ডিসের ঘুরে বেড়ানোর গল্প।</p>
<p style="text-align: justify"><img src="https://www.discussionproject.org/cloud/archives/2020/04/chico_mende.thumbnail.jpg" alt="চিকো মেন্ডিস বলেছিলেন, ‘আমি ফুল চাই না। কেননা আমি জানি ফুলটি আপনি বন থেকে ছিঁড়ে এনে দেবেন’" /><br />
চিকো মেন্ডিস (১৫ ডিসেম্বর ১৯৪৪-২২ ডিসেম্বর, ১৯৮৮) ছিলেন একজন ব্রাজিলীয় রাবার সংগ্রহকারী, ট্রেড ইউনিয়নের নেতা এবং পরিবেশবাদী। তার পুরো নাম ফ্রান্সিসকো আলভেস মেন্ডেস ফিলহো। তিনি আমাজন চিরহরিৎ বন সংরক্ষণের জন্য লড়াই করেছিলেন এবং ব্রাজিলীয় কৃষক ও আদিবাসীদের পক্ষে ছিলেন। ছেলেবেলায় জেনে গিয়েছিলেন মানুষ ও তার চারপাশটা মিলেই হচ্ছে প্রকৃতি। একে অন্যকে সহযোগিতা করেই গড়ে ওঠে জীববৈচিত্র্য। তাই তো প্রকৃতিমাতা জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখতে আজীবন কাজ করেছেন, জেল খেটেছেন তিনি। সরকার ও ভূস্বামী উভয়ের হাতে মার খেয়েছেন। ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর তাকে একজন রানার হত্যা করে। এ রকমটি ঘটেছিল আমাদের চলেশ রিছিল, পীরেন স্নাল, আলফ্রেড সরেনদের ক্ষেত্রে; প্রথম দুজন মধুপুরের ইকোপার্ক নির্মাণের বিরোধিতা করে; আরেকজন নওগাঁর বনে, নিজেদের বাড়িঘর থেকে উদ্বাস্তু হওয়া ঠেকাতে।</p>
<p style="text-align: justify">চিকো মেন্ডিস বলেছিলেন, ‘আমি ফুল চাই না। কেননা আমি জানি ফুলটি আপনি বন থেকে ছিঁড়ে এনে দেবেন।&#8217; গাছের প্রতি, পরিবেশের প্রতি এমন ভালোবাসা ছিল চিকো মেন্ডিসের। তাকে বলা হয় বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণের কোলাহলে মুখরিত পৃথিবীর প্রথম সারির সেনাপতি। তার সম্মানেই ব্রাজিলীয় পরিবেশ মন্ত্রকের আওতাধীন একটি সংস্থা চিকো মেন্ডিস ইনস্টিটিউট ফর কনজার্ভেশন অব বায়োডাইভার্স নামকরণটি করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম গ্লোবাল ৫০০ রোল অনার এবং ১৯৮৮ সালে ন্যাশনাল ওয়াইল্ড লাইফ ফেডারেশনের জাতীয় সংরক্ষণ প্রাপ্তি পুরস্কারসহ মেন্ডিস তার কাজের জন্য বেশ কয়েকটি পদক পেয়েছিলেন।</p>
<p style="text-align: justify">চিকোর জন্ম একরি রাজ্যের ছোট্ট শহর ঝাপুরির বাইরে সেরিংল বোম ফুটুরো নামে একটি রাবার রিজার্ভে। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় প্রজন্মের রাবার সংগ্রহকারী, ফ্রান্সিসকো মেন্ডিস এবং তার স্ত্রী ইরাকের ছেলে। চিকোরা ছিলেন ১৭ ভাইবোন, যাদের মাত্র ছয়জন শৈশব থেকে বেঁচেছিলেন। ৯ বছর বয়সে চিকো তার বাবার পাশাপাশি রাবার সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় দেশজুড়ে রাবারশিল্প হ্রাস পাচ্ছিল এবং গবাদিপশুর চারণভূমির জন্য প্রায়ই জমি বিক্রি ও পোড়ানো হতো। সরকার ও গবাদিপশু পালকরা তাদের সাপুপুরীর নিকটবর্তী অঞ্চলসহ ভূমি থেকে অনেক সেরিংগুয়েরোসকে বহিষ্কার করেছিল। এ পরিস্থিতিতে রাবার সংগ্রহকারীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এবং চিকোর পরিবার অন্য পরিবারগুলোর মতোই মারাত্মকভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।</p>
<p style="text-align: justify">চিকো মেন্ডিসের রাবার শ্রমিক ইউনিয়ন রেইন ফরেস্টকে বাঁচাতে সরকারকে সংরক্ষিত বনভূমি স্থাপন করতে বলেছিল। তারা চেয়েছিল, বনটিকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না করে মানুষ ব্যবহার করতে পারে। তারা খুব কার্যকর কৌশলও উদ্ভাবন করেছিল, এগুলোকে তারা ‘এমপেট&#8217; বলে ডাকে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ব্রাসিলিয়া শহরে রাবার টেপার্স ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ১৯৮৫ সালে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নতুন এই ইউনিয়নের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে রাবার সংগ্রহকারীরা এসেছিল। তাদের জীবিকা নির্বাহের ঝুঁকি থেকে শুরু করে রাস্তা বেঁধে দেওয়া, গবাদি পশুপালনের কাজ এবং বন উজাড়ের বৃহৎ সমস্যাগুলোর দিকে সবার মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছিল।</p>
<p style="text-align: justify">মেন্ডিস বিশ্বাস করতেন যে, শুধু রাবার সংগ্রহের ওপর নির্ভর করাটা টেকসই হবে না; সেরিংগিওরদের উন্নয়নে প্রয়োজন আরও সামগ্রিক, সমবায় ব্যবস্থার বিকাশ, যে পদ্ধতিগুলো বিভিন্ন জাতের বনজ যেমন বাদাম, ফল তেল এবং তন্তু নিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া রাবার সংগ্রহকারীদের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সঙ্গে শক্তিশালী সম্প্রদায় গঠনে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। ১৯৮৭-এর মার্চে পরিবেশ প্রতিরক্ষা তহবিল এবং ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ফেডারেশন মেন্ডিসকে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়ে এসেছিলেন। কারণ ছিল ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক এবং মার্কিন কংগ্রেসকে নিষ্ক্রিয় রিজার্ভ তৈরি করা যে প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে শুধু মেন্ডেসই বোঝাতে পারে। চিকো মেন্ডিস বলেছিলেন, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমি রাবার গাছ বাঁচাতে লড়াই করছি, তখন আমি ভেবেছিলাম আমি অ্যামাজন রেইন ফরেস্টকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছি। এখন বুঝতে পারছি আমি মানবতার জন্য সংগ্রাম করছি।</p>
<p style="text-align: justify">মেন্ডেস কেবল পরিকল্পিত বন উজাড় বন্ধে এবং সংরক্ষণে সক্ষম হননি; রাস্তা বানানো শুরু করার পর থেকেই অনেক আদিবাসী উদ্বাস্তু হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, ইন্ডিয়ানদের অবলুপ্তি ঘটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন; অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ার, ভূমিক্ষয় হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য চিকো মেন্ডিস দাঁড়িয়েছিলেন। তার পর একদিন গোধূলিবেলা ঘাতকের বুলেটের মুখে আমাজনের মতো উদাত্ত বুক পেতে দিয়েছেন চিকো মেন্ডিস।</p>
<p style="text-align: justify">সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারলেও চিকোর মৃত্যুর ৩০ বছরের মাথায় আবার পোড়ানো শুরু হয়েছে আমাজন। এদিকে ১৫ বছর পর আমি আবার মাধবকু-ে বেড়াতে এলে চকচকে কংক্রিটের জঙ্গল ছাড়া কিছু চোখে পড়েনি। প্রচুর রেস্টুরেন্ট, ওলটপালট ব্যবসায়িক পসরা; প্রচ- শব্দদূষণ। এভাবে প্রত্যেকটা জায়গার পরিবেশ পাল্টে যাচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের জোয়ারে। দ্বিজেন শর্মা মাধবকু-ের বিপন্ন অবস্থাকে বর্ণনা করার জন্য তখনই পৃথিবীর গভীরতর অসুখে লিখেছিলেন, প্রকৃতির ওপর বলাৎকাররত কারা এই লম্পট? করাতকল ইটভাটার মালিকদের লোক? না, সরাসরি তারা কেউ নয়। এ হলো ঘনীভূত লোভের লোলজিহ্বা। আমি চিকো মেন্ডিস নই। এই জিহ্বা টেনে ধরার মতো সাহস আমার নেই। অসহায় আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি। খট খট আওয়াজ ক্রমে কফিনে পেরেক ঠোকার মতো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। এ কার কফিন? সম্ভবত আমাদের সবার, গোটা মানবজাতির!</p>
<p>লেখক: আসিফ<br />
<em>বিজ্ঞান বক্তা ও লেখক; সম্পাদক, মহাবৃত্ত</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.discussionproject.org/457/feed</wfw:commentRss>
		</item>
	</channel>
</rss>
