ডিসকাশন প্রজেক্ট - বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে
প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরে ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’। সকল সদস্য-শুভানুধ্যায়ীদের সংস্থার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা!
ঢাকা, এপ্রিল ২৫, ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, স্থানীয় সময়: ৭:৫৮ am

বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে

বই | ২৬ ফাল্গুন ১৪২১ | Tuesday, March 10, 2015

bibortoner_pothe.jpgভূমিকা
চিরন্তন অনুসন্ধিৎসু এক প্রাণী

সক্রেটিসের সময় থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত সমগ্র ইতিহাসের অধ্যায় জুড়ে, মানুষ বারবার জীবনের দুটো মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে তাহলো আমরা কে এবং কেন আমরা এখানে? ফেলে আসা অতীত আর অজানা ভবিষৎতের চক্রে আটকে পড়া মানবসত্ত্বা এ চক্রে ঘুরপাক খেয়েছে অনবরত। মানুষ চিরন্তন এক অনুসন্ধিৎসু প্রাণী। তাই তাদের চলার পথ ও উপলব্ধি অন্বেষণের গতি কখনো থেমে থাকেনি। প্রাচীন মানবেরা যখন তৃণভূমির অঞ্চলে ছিল অথবা খোলা প্রান্তরে ছুটেছিল তখনও তারা ভেবেছিল, যখন সে সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে বিশালতায় বিস্মিত হতো, পাহাড়ি গিরিখাতে বা গভীর জঙ্গলে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতো খাবারের সন্ধানে তখনও তারা ভেবেছিল, ভেবেছিল এই চক্র থেকে উত্তরণের উপায়।
মিখাইল ইলিন ও ইয়েলানা সেগাল বলেছেন, বংশের পর বংশ, কত জাতি আর গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে ধুলোয় মিলিয়ে গেছে নগর কি গ্রামের আকারে সামান্য স্মৃতিচিহ্নও আর অবশিষ্ট নেই তাদের; কালের করাল গ্রাস থেকে কেউ নিস্তার পায়নি। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতার বিনাশ ঘটে নি; সে বেঁচে রয়েছে ভাষায়, কলাকৌশলে, বিজ্ঞানে। ভাষায় প্রত্যেকটি শব্দ, কাজের প্রতিটি ভঙ্গিমা, বিজ্ঞানের প্রতিটি ধারণা এসবই হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাসম্ভার। মানুষের অভিজ্ঞতার প্রবাহে অনাদিকালের লেখকের কাজ আজকের জীবিতের কাজে মিশে এক অখণ্ড প্রবাহ রচনা করেছে। তবুও এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি।
ইউক্লিড, আর্কিমিডিস থেকে হাইপেশিয়া, ওমর খৈয়াম ও ইবনে সিনা, আল বেরুণী, কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিও এবং শেক্সপিয়র ও লিওনার্দোদের মত মহান আবিষ্কারক ও স্রষ্টাদের রচনা ও কর্মকাণ্ড আমাদের চলার গতিকে অব্যাহত রেখেছে। বিজ্ঞান ও মানবিকবিদ্যার অর্জনগুলো ধাবিত করেছে সুবিস্তৃত পৃথিবীর দিকে। তবুও মেলেনি সে উত্তর। কিন্তু নিজেদের অজান্তে মানুষ সরে গিয়েছে ‘কেন’ থেকে ‘কীভাবে’র দিকে, সরে গিয়েছে উদ্দেশ্যে থেকে কারণ অনুসন্ধানের দিকে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির দিকে তাকালে আমরা দেখি শিল্পকলা ও বিজ্ঞান সবসময় হাতধরাধরি করে চলেছে। তা গ্রিসের স্বর্ণযুগ, আলেক্সান্দ্রিয়া অথবা রেঁনেসার সময়ই হোক অথবা সপ্তদশ শতাব্দীই হোক। ইতিহাসের সব জায়গায় বিজ্ঞানকে জীবনের অঙ্গ করেই ছুটেছে। যখনই তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তখনই দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। বর্তমান সময় শিল্প ও বিজ্ঞানের সেই অন্তর্গত ঐক্যেরই উত্তরাধিকার। অথচ একটা শ্রেণী এটাকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যুগ বলে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। এই প্রবণতা বিজ্ঞানকে সংস্কৃতি থেকে শুধু বিচ্ছিন্নই করছে না, সুবিধা করে দেয়া যাদুর কাঠি হিসেবে বিজ্ঞানকে দেখছে - যা এক হতাশাগ্রস্থ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
অন্ধকার, অজ্ঞতা, হিংসা আর বর্বরতার ভেতর থেকেই বেরিয়ে এসেছে সভ্যতা আর মানবতার আলো। প্রতিনিয়ত সংঘাতের মধ্যদিয়েই এর পথচলা এবং উত্তরণ। তাই আজকের এ সময়টি যত অন্ধকার তমসাচ্ছন্ন বা হিংস্রই মনে হোক না কেন এইটিই আগামী সকালে বার্তা, পূর্বাভাষ। বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞান বক্তৃতায় প্রশ্ন প্রতিপ্রশ্নোত্তরের মধ্যে দিয়ে যেসব অভিজ্ঞতা হয়েছে সেখানে বিজ্ঞান, কলা, ধর্ম কোনোটাই বাদ পড়েনি। একটির ব্যাখ্যায় অন্যটি স্বাভাবিকভাবেই চলে এসেছে। কখনো অন্যমনস্ক হয়ে তেপান্তরে চলে গিয়েছি, তন্ময় হয়ে ভেবেছি কেন? মন বলেছে কেন? ইতিহাসের বাঁকগুলো বলছে কেন? কিন্তু সময় বলছে প্রথমে কীভাবের দিকে যেতে হবে। কেন ও কীভাবের দ্বন্ডই আমাদের সামনে পথ করে দেবে। কেন হলো আমাদের অন্তর্গত এক প্রক্রিয়া। ‘কেন’ হলো এক উপলব্ধি থেকে আরেক উপলব্ধিতে উত্তরণ।
বর্তমান হলো সামাজিক বিজ্ঞানের যুগ। এটা আমাদের বুঝিয়েছে মানুষকে পরিচালনা করতে হবে ইতিহাসের শক্তিতে। এটাই আমাদের বলছে নম্রতা ও ভদ্রতার কথা, যা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় একটি প্রধান কৌশলে পরিণত হতে যাচ্ছে যদি আমাদের টিকে থাকতে হয়। মস্তিষ্ক বিকাশের দিকে তাকালেও আমরা বুঝতে পারি এটা আমাদের হাজার হাজার বছরের অর্জন। একাবিংশ শতাব্দীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম (১৯৯৮) মানবজাতির এ অন্বেষা ও আবিষ্কারের যুগ শীর্ষক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিলো এ আবিষ্কার দিয়ে। এই সাময়িকীতে আরও বলেছিল নতুন সহস্রাব্দ শুরু হবার মুহুর্তে সারা জগত নিজেদের মধ্যে কথা বলে উঠেছে, পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আসছে। এমন সুযোগ অতীতে ছিল না। এতকাল মানুষ নিজের ভিতর পশু প্রবৃত্তিকে দমনের আইন তৈরি করেছে। আজ মানুষ নিজের ভিতর দেবশক্তির উদ্বোধনে পিছপা হবে না; ইতিবাচক চিন্তায় জীবন পরিবার, সময় ও জাতির ভাগ্যে যে পরিবর্তন করা যায়, সে বিশ্বাস আজ বাংলাদেশের হাজার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই বইটিতে সেই বিশ্বাসকেই ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। সক্রেটিসকে বিষপানে প্রাণ দিতে হয়েছিল এথেন্সবাসীর (স্বদেশ) মধ্যে জিজ্ঞাসা জাগরিত করার জন্য। অজ্ঞানতা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশে আজ সমাজ রাজনীতি, অর্থনীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজ্যে নতুন শতাব্দী হাজির হয়েছে। ফরাসী বিপ্লবের মহানায়ক ভল্টেয়ার বলেছিলেন, সভ্যতা কেবল ইউরোপীয়দের হাতে তৈরি নয়, সমগ্র বিশ্বের, সমগ্র মানবজাতির মিলিত অবদান এটা। বিজ্ঞান অন্ধকারের প্রদীপ। এ প্রদীপ আরও প্রজ্জ্বলিত হোক, ছড়িয়ে পড়ুক আলো থেকে আলো, অন্তরে অন্তরে।

সূচিপত্র:
বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে
প্রাচীন বিজ্ঞানীদের ভাবনা কেমন ছিল
হিগস বোসনের সন্ধান লাভ
বিজ্ঞান - বিশ্বকে বোঝার একটি পথ
অধ্যাপক জামাল: বাস্তবতা গল্পের চেয়েও অদ্ভুত
কার না ইচ্ছে করে সময়ের পিছন দিকে যেতে
উলফ ভিসনিয়াক - তারাই যথার্থ যাত্রী যারা চলে যায়
সাইবর্গ - যন্ত্র ও মানুষের একীভবনের পথে
মহাজাগতিক সমুদ্রে পথ চলা শুরু
তব্ওু পৃথিবী ঘোরে
বুদ্ধিবৃত্তিক গ্রহের সন্ধান পেলে কী বলবে কেপলার?

প্রকাশক: তাম্রলিপি
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
প্রচ্ছদ: যোয়েল কর্মকার
কম্পোজ ও গ্রাফিক্স: ডিসকাশন প্রজেক্ট